প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার অভাবে আটকে গেছে ‘বৃদ্ধাশ্রম’ চলচ্চিত্রের দেশব্যাপী প্রদর্শনী: ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করলেন এস ডি রুবেল
বিনোদন প্রতিবেদক:
সমাজে প্রবীণ মা-বাবার প্রতি অবহেলা দূর করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে মানবিক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নির্মিত হয়েছিল সরকারি অনুদানের বিশেষ চলচ্চিত্র ‘বৃদ্ধাশ্রম’। মুক্তির পর সেন্সর বোর্ড ও প্রেক্ষাগৃহের দর্শকদের কাছ থেকে ছবিটি ব্যাপক প্রশংসা পেলেও, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার অভাবে এর দেশব্যাপী প্রদর্শনী থমকে গেছে। এ নিয়ে গভীর ক্ষোভ, দুঃখ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন চলচ্চিত্রটির নির্মাতা, অভিনেতা ও জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী এস ডি রুবেলসম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বক্তব্যে ‘বৃদ্ধাশ্রম’ চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্দেশ্য এবং পরবর্তী অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সমাজে প্রবীণ মা-বাবার প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করাই ছিল এই চলচ্চিত্র নির্মাণের মূল লক্ষ্তিনি লেখেন—
“বৃদ্ধাশ্রম” চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছিলাম বাংলাদেশের আপামর মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে। আমার বিশ্বাস ছিল—জীবনের শেষ প্রান্তে এসে কোনো মা-বাবা যেন অবহেলা, অপমান কিংবা একাকীত্বের শিকার না হন। আমরা যত ব্যস্তই হই না কেন, যাঁদের ভালোবাসা, ত্যাগ ও সংগ্রামের ঋণে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছি, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা, যত্ন ও ভালোবাসা প্রদর্শন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
এস ডি রুবেল জানান, চলচ্চিত্রটি মুক্তির সময় সেন্সর বোর্ড এবং প্রেক্ষাগৃহের দর্শকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছিল। তাঁর ইচ্ছা ছিল ছবিটি সারা দেশে বিনামূল্যে প্রদর্শনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আরও বেশি সচেতনতা সৃষ্টি করা। তবে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা না পাওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভবতিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমে প্রায়ই বৃদ্ধ মা-বাবার প্রতি অবহেলা, নির্যাতন ও অসম্মানের খবর দেখে তাঁর হৃদয় ব্যথিত হয়। এ কারণেই তিনি ‘বৃদ্ধাশ্রম’ নির্মাণ করেছিলেন, যাতে সমাজের মানুষ উপলব্ধি করতে শেখে—মা-বাবার প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং এটি মানবিক কর্তবনিজের বক্তব্যে তিনি দেশের বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগের বাস্তবায়ন সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, অনেক ভালো উদ্যোগ যথাযথ সহযোগিতা, পৃষ্ঠপোষকতা এবং কার্যকর বাস্তবায়নের অভাবে থেমে যায়। অথচ সমাজ পরিবর্তনের জন্য এমন উদ্যোগের আরও বিস্তার প্রয়োতবে হতাশার মধ্যেও আশাবাদী এস ডি রুবেল। তিনি বিশ্বাস করেন, সচেতনতার প্রতিটি ছোট প্রচেষ্টাই ভবিষ্যতে একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ গঠনের ভিত্তি তৈরি করে।
বক্তব্যের শেষে তিনি প্রার্থনা করেন, এমন একটি সময় আসুক যখন কোনো মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে নয়, সন্তানের ভালোবাসা ও সম্মানের আশ্রয়ে জীবন কাটাতে হবে। তাঁর ভাষায়, “তখনই আমাদের মানবিকতার প্রকৃত বিজয় হবে।”