Logo
ক্যারিয়ার

টিউশনির সফলতা মানে ক্যারিয়ার ধ্বংস?

প্রকাশিত: Jun 17, 2026 - 04:42 PM
146 বার পঠিত
টিউশনির সফলতা মানে ক্যারিয়ার ধ্বংস?

রাসেল ইব্রাহীম।।


টিউশনি কয়টা করব? দিনরাত টিউশনি করে কি ভালো চাকরি পাওয়া সম্ভব? এ প্রশ্ন প্রায় সব শিক্ষার্থীর মনেই আসে। যাইহোক, “টিউশনির সফলতা মানে ক্যারিয়ার ধ্বংস”— এমন একটি বক্তব্য ছুড়ে দেওয়ার পর বিভিন্ন মতামত পাওয়া গেছে। নিচে সেসব মন্তব্যের চুম্বকীয় অংশ তুলে ধরা হলো।

রূপসা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক মো. শামিম আজাদ লিখেন—

“টিউশনির ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে যাওয়া নিজের ক্যারিয়ারের জন্য বিপদজনক হতে পারে। টিউশনির পাশাপাশি নিজের পড়াশোনা করা উচিত। তাহলেই একজন ব্যক্তি টিউশনি জীবন ও ক্যারিয়ার— উভয় ক্ষেত্রেই সফল হতে পারবে।”

রামগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক মো. মিজানুর রশিদ লিখেন—

“টিউশনি করতে হবে সীমিত পরিসরে। শুধু পকেট খরচ, চাকরির প্রস্তুতি এবং বিভিন্ন পরীক্ষার ফি-সহ প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর মতো আয় হলেই যথেষ্ট। একটা সময়ের পর পরিবারের ওপর নির্ভর করে থাকা ভালো লাগে না। তবে টিউশনি নির্বাচনের ক্ষেত্রে হতে হবে কৌশলী। ৯ম-১০ম শ্রেণির ইংরেজি, গণিত, বাংলা ২য় পত্র এবং ৮ম শ্রেণির গণিতের শিক্ষার্থীদের পড়ালে একদিকে আয় হবে, অন্যদিকে নিজেরও চাকরির প্রস্তুতি শক্ত হবে। অর্থাৎ, এক ঢিলে দুই পাখি মারা হবে।”

আশেক আলী খান হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের রসায়ন প্রভাষক ওমর ফারুক আকাশ লিখেন—

“আমি একটু ভিন্নভাবে বলবো। আসলে বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রেই ক্যারিয়ার বলতে বোঝানো হয় বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান কিংবা বিভিন্ন তথ্য গলাধঃকরণ করা। অথচ ক্যারিয়ার হওয়া উচিত নিজের বিষয়ের ওপর দক্ষতা অর্জন, আবিষ্কার ও প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণাভিত্তিক। যে যে বিষয়ে দক্ষ, তার কর্মক্ষেত্রও তেমন হওয়া উচিত; কিন্তু বাস্তবে তা সবসময় হয় না।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে টিউশনি বিষয়টি একেবারে অস্বাভাবিক নয়। উচ্চমাধ্যমিকের পর অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি অন্য কাজ করারও সুযোগ পায়। তাই সঠিক পরিকল্পনা থাকলে টিউশনির পাশাপাশি নিজের উন্নয়নও সম্ভব।”

খোকশা বাড়ি এমইউ উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান শিক্ষক আব্দুর রহিম লিখেন—

“নিজের সুবিধামতো সর্বোচ্চ দুইটি টিউশনি করা উচিত, সপ্তাহে ৩–৪ দিন করে।”

হাজী মনসুর আহমেদ একাডেমির( ইংরেজি ভার্সন) গণিত শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল নাঈম লিখেন—

“টিউশনি যে সময়ে করতে হয়, সেটাই মূলত নিজের পড়াশোনার সময়। সকাল-সন্ধ্যা ৪–৫টি টিউশনি করতে গিয়ে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি এক বাসা থেকে আরেক বাসায় যাতায়াতের ক্লান্তিও যোগ হয়। ফলে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে নিজের একাডেমিক বা চাকরির প্রস্তুতি কোনোটিই ঠিকমতো করা যায় না।

অনেকে বলেন, টিউশনি করলে চাকরির পড়ায় উপকার হয়। কিছুটা হলেও হয়, তবে তা খুবই সামান্য। বর্তমানে চাকরির পরীক্ষায় যে গভীরতা থেকে প্রশ্ন করা হয়, তার সঙ্গে টিউশনির পড়ার মিল খুব কম। আমি মনে করি, একজন টিউটরের সর্বোচ্চ এক বা দুইটির বেশি টিউশনি করা উচিত নয়। বেশি টিউশনি সাময়িক আর্থিক সুবিধা দিলেও ভবিষ্যতে তা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।”